হাওজা নিউজ এজেন্সি: রোববার রাতে এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ড জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথের ওপর বিদেশি আধিপত্যের যুগ চিরতরে শেষ হয়েছে। প্রেস টিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে কমান্ড জোর দিয়ে বলেছে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি একটি নতুন বাস্তবতা সৃষ্টি করেছে। এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বহির্আঞ্চলিক শক্তিগুলো আর ইরানের নিকটবর্তী সামুদ্রিক পরিবেশে তাদের শর্ত চাপিয়ে দিতে বা নিরঙ্কুশ প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।
আইআরজিসি নৌবাহিনী জোরালোভাবে জানিয়েছে, “হরমুজ প্রণালী আর কখনোই তার আগের অবস্থায় ফিরবে না—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শাসনগোষ্ঠীর জন্য।” একইসঙ্গে তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে যে ইরান তার সার্বভৌমত্ব ও পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেকোনো অস্থিতিশীল হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আইআরজিসি নৌবাহিনী ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আগে ঘোষিত ব্যাপক পরিকল্পনার কার্যকর প্রস্তুতির চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য পারস্য উপসাগরে একটি নতুন, দেশীয় নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা। এর ভিত্তি হলো এই নীতি—অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা উপকূলীয় রাষ্ট্রগুলোকেই নিশ্চিত করতে হবে, বহিরাগত শক্তির উত্তেজক ও অবৈধ উপস্থিতি ছাড়া।
এই প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে বর্ধিত নৌ মোতায়েন, উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা ও সমন্বিত দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা। এসব ইরানের আঞ্চলিক জলরক্ষা এবং প্রণালী দিয়ে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। বারবার বিদেশি উস্কানি সত্ত্বেও ইরান ধারাবাহিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করে আসছে।
ইরানের সামরিক কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি এই নতুন শৃঙ্খলাকে চ্যালেঞ্জ করতে বা তাদের সামরিক আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাহলে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাছ থেকে তারা দ্রুত, নির্ণায়ক ও চূর্ণবিচূর্ণ প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হবে।
আপনার কমেন্ট